২০১২ সালে প্রণীত মাইমূন সমিতির সংবিধান
“মাইমূন সমিতি”
একটি
আর্থ সামাজিক সংগঠন। সুদমুক্ত নিঃস্বার্থ ঋণ প্রদানের
ল্েয অর্থ সঞ্চয়ই এর মূল ও প্রধান কাজ। সমিতির সুশৃংল ও অবিচল পথ চলার জন্য
২০১২ ই. সালে প্রণীত সংবিধানের ধারা সমূহ:
১। সমিতির নাম “মাইমূন সমিতি”।
২। সমিতির নির্ধারিত মেয়াদকাল দশ বছর। যাত্রা শুরু ১লা জানুয়ারী ২০১২ ই. সমাপ্তি ৩১শে ডিসেম্বর ২০২১ ই.। তবে আইনগত সত্ত্বা অবশিষ্ট থাকবে অনুর্ধ্ব ১০জন সদস্য বাকি থাকা পর্যন্ত।
৩। সমিতির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ১০ জন । তবে কাম্য হল ত্রিশর্ধ্ব।
৪। সদস্যদের মাসিক কিস্তি ৫০০ টাকা, রিজার্ভ ফান্ড বাবদ ১০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ৬০০০ টাকা এক বৎসরে।
৫। সমিতির মোট ডিপার্টমেন্ট হল পাঁচটিঃ ক) পরিচালনা কমিটি। খ) সঞ্চয়ী ফান্ড। গ) রিজার্ভ ফান্ড। ঘ) বিনিয়োগ ফান্ড। ঙ) লভ্যাংশ ফান্ড।
ক) পরিচালনা কমিটিঃ এই ডিপার্টমেন্টের কাজ হলো সমিতির সার্বিক পরিচালনার ভার বহন করা। সমিতির পরিচালনা কমিটি নির্বাচিত হবে সমিতির সদস্যদের মধ্য হতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ লোকদের মাধ্যমে এবং নির্বাচন করা হবে সকল সদস্যদের সর্বসিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।
খ) সঞ্চয়ী ফান্ড ঃ এই ফান্ড সকল সদস্যের মাসিক ও বাৎসরিক কিস্তির টাকার হিসাব-নিকাশ ও সংরণ করবে।
গ) রিজার্ভ ফান্ড ঃ সমিতির সকল ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব এই ফান্ডের। রিজার্ভ ফান্ডের আয়ের উৎস হলো দুটি ১) সদস্যদের থেকে নেয়া মাসিক ১০ টাকা ও প্রয়োজনে অন্তর্বর্তিকালীন সময়ে নেয়া চাঁদা। ২) বিনিয়োগ থেকে আসা লভ্যাংশের ১০ %।
ঘ) বিনিয়োগ ফান্ড ঃ বছর দুয়েক পর বিনিয়োগের সময় সঞ্চয়ী ফান্ড থেকে আনা টাকা দিয়ে বিনিয়োগ করা এবং লভ্যাংশের টাকা লভ্যাংশ ফান্ডে ও মূল টাকা সঞ্চয়ী ফান্ডে ফেরৎ দেয়া এই ফান্ডের কাজ।
ঙ) লভ্যাংশ ফান্ড ঃ বিনিয়োগ থেকে আসা লভ্যাংশের ১০% রিজার্ভ ফান্ডে জমা দেয়া এবং বাকি টাকার হিসাব নিকাশ ও সংরণ করা এই ফান্ডের কাজ।
৬। সমিতির সদস্য পদ লাভের জন্য সমিতির নিজস্ব ফরমে আবেদন পূর্বক ভর্তি হতে হবে এবং ফরম বাবদ পঞ্চাশ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সদস্যদের থেকে নেয়া ভর্তির সকল টাকা সমিতির রিজার্ভ ফান্ডে জমা হবে।
৭। সমিতির সদস্য পদে ভর্তি হওয়ার মেয়াদ ৩১শে জুন ২০১২ ই. পর্যন্ত। উক্ত মেয়াদের পরে কোন আগ্রহী ব্যক্তি সমিতির সদস্য পদে ভর্তির আবেদন করলে পূর্বোক্ত সকল টাকা পরিশোধ করার শর্তে বিশেষ বিবেচনায় তাকে ভর্তি করা যেতে পারে।
৮। সমিতির মূল ভিত্তি হলো “মুশারাকাহ” তথা ‘লাভ-লোকসানের েেত্র সকলেই সমান’।
৯। সেতু-বন্ধন সমবায় সমিতির সকল ফান্ডের অর্থ সুরতি রাখার জন্য সকল টাকা ..................... ব্যাংকে “চলতি হিসাব” (current a/c) একাউন্টে জমা রাখা হবে।
১০। সদস্যদের মাসিক কিস্তির টাকা মাসের দশ তারিখের মধ্যে সঞ্চয়ী ফান্ড অর্থ সম্পাদকের কাছে জমা দিবে। সরাসরি সদস্য জমা দিবে কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তির মাধ্যমে জমা দিবে । আর বাৎসরিক এককালীন কিস্তির টাকা ১০ শে ডিসেম্বর থেকে ৩১ শে ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে।
১১। সমিতি ১/২ বছর অতিবাহিত হলে সঞ্চয়ের টাকা নিষ্ক্রীয় না রেখে বৈধ কোন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হবে এবং যা লাভ আসবে তার ১০% জমা হবে রিজার্ভ ফান্ডে। বাকি টাকা লভ্যাংশ ফান্ডেই থাকবে এবং মেয়াদ শেষে সঞ্চয়ের শতকরা হারে তা সদস্যদের মাঝে বণ্টন করা হবে। লোকসান হলেও সঞ্চয়ের শতকরা হারে তা উসুল করে নেয়া হবে। (বিবেচনাধীন ধারা)
১২। সমিতির সদস্য স্থানীয় লোকও হতে পারে আবার ভিন্ন জেলা বা এলাকার লোকও হতে পারে। তবে দূরের সদস্যকে অবশ্যই স্থানীয় কোন সদস্যের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ হতে হবে। সমিতির সকল কার্যক্রম এবং পরবর্তিতে ঋণদান প্রকল্পের যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দিবে স্থানীয় সদস্যরা। বহিরাগত সদস্যরা থাকবে সহযোগীর ভূমিকায়।
১৩। কোন সদস্য ইচ্ছা করলে সমিতিতে একাধিক সদস্যপদ রাখতে পারবে। এজন্য তাকে সমিতির নিদৃষ্ট ফরমের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
১৪। সমিতির প্রথম এক বছরে কোন সদস্যকে সমিতির কোন ফান্ড থেকে ঋণ দেওয়া হবে না।
১৫। সমিতির পাঁচ বছর পূর্ণ হলে সঞ্চয়ী ফান্ডের অর্থ দিয়ে শুরু হবে মূল কার্যক্রম ‘সুদমুক্ত নিঃস্বার্থ ঋণ দান প্রকল্প’। অন্যান্য ফান্ডের অর্থ পূর্বের অবস্থায় বহাল থাকবে। (বিবেচনাধীন ধারা)
১৬। সমিতির দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কারো একান্ত প্রয়োজন হলে সে তার টাকা প্রত্যাহার করতে পারবে না ঠিক তবে ইচ্ছা করলে তার শেয়ার অন্যের কাছে সমমূল্যে বিক্রি করে দিতে পারবে। তবে তা অবশ্যই সমিতির কর্তৃপরে মঞ্জুরি সাপেে হতে হবে।
১৭। সমিতির দশ বছর পূর্ণ হলে সমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সমিতি সমূলে ভেঙ্গে দেয়া হবে না। বরং কারো প্রয়োজনে সে তার সঞ্চয়ী টাকা (যদি লাভ হয়) শতকরা লাভে কিংবা (যদি লোকসান হয়) শতকরা লোকসানে প্রত্যাহার করে নিতে পারবে। অথবা ইচ্ছা করলে তার শেয়ার সমমূল্যে অন্যের নিকট বিক্রি করে দিতে পারবে।
১৮। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যতদিন পর্যন্ত সর্বনিম্ন ১০ জন সদস্য সংখ্যা বাকি থাকবে ততদিন পর্যন্ত সমিতির আইনগত সত্তা অবশিষ্ট থাকবে। সদস্য সংখ্যা দশের নীচে নেমে এলে সমিতির আইনগত সত্তা ভেঙ্গে দিয়ে তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ দেয়া হবে।
১৯। সমিতির যে কোন প্রয়োজনে কোন সদস্যকে আহবান করা হলে কিংবা কোন মিটিং ডাকা হলে প্রত্যেক সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
২০। প্রতি বৎসর ডিসেম্বর মাসে সমিতির চার‘টি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, তিন মাস পরপর।
২১। কোন সদস্য যদি সঞ্চয়ের টাকা দিতে গড়িমসি করে তাহলে সমিতির কর্তৃপ তার বিরুদ্ধে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে কেউ একান্ত সমস্যার কারণে দিতে দেরি হলে সমিতি তা বিবেচনা করে দেখবে।
২২ । পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে গ্রীহিত সকল সিদ্ধান্ত সর্বোতভাবে কার্যকর বলে বিবেচিত হবে।
২৩। সমিতির যে কোন পদের সদস্য থেকে সংবিধানে প্রণীত নীতিমালার পরিপন্থী কোন কাজ প্রকাশ পেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা স্থায়ী বরখাস্তসহ যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অধিকার রাখবে সমিতি কর্তৃপ।
সভাপতি
(পরিবর্তন পরিবর্ধন ও
পরিমার্জনাধীন)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন